
দেশে মোট নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫টি এবং নদ-নদীর অবৈধ দখলদারের সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
নৌমন্ত্রী বলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও নদীকর্মীদের সহায়তায় প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী দেশে নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫টি। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে নদীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নদীর স্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন-২০১৩ সংশোধনের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত আইনে নদ-নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা, অভিযোগ তদন্ত, দূষণের ক্ষতিপূরণ আদায় এবং মামলা দায়ের ও তদারকির বিধান রাখা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের নদ-নদীতে মোট ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ দখলদার শনাক্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। উচ্ছেদযোগ্য তালিকা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে প্রতিবছর নিয়মিত সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হচ্ছে। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে নাব্য নৌপথের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার এবং বর্ষা মৌসুমে ৮ হাজার কিলোমিটার।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ব্যক্তি পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে যাত্রীবাহী লঞ্চবহরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বড় আকারের লঞ্চ যুক্ত হওয়ায় আগের তুলনায় দুর্ঘটনা কমেছে। পাশাপাশি এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ চলাচলে মালিকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নৌদুর্ঘটনা আরও কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।










