
বাংলা পঞ্জিকায় এখন চলছে আশ্বিন মাস। সাধারণত পৌষ ও মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হলেও এরই মধ্যে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বইতে শুরু করেছে শীতের আগমনী হাওয়া। রাজধানী ঢাকাতেও উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, যা শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে, আর জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণে এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
তিনি জানান, দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। তবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়বে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকবে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।
নাজমুল হক আরও জানান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করতে পারে।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রাথমিক আভাস মিললেও রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের পূর্ণ আমেজ পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও কয়েক সপ্তাহ।









