
কুমিল্লা জেলাজুড়ে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে মোট ৩৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা এলাকা এবং মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন। আটকদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে, অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া এবং প্রাথমিকভাবে সতর্ক করার অংশ হিসেবে ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লাজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জেলাজুড়ে মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, উঠতি বয়সী তরুণরা যেন কোনোভাবেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই জেলা পুলিশ নিয়মিত প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানের সময় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা জেলা থেকে কিশোর অপরাধ, মাদক ও ছিনতাই নির্মূলে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমনে এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।










