বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Bullet Bairagi
নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ এজাহারনামীয় ও অভিযুক্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলেও মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আলম গণমাধ্যমকে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারের জন্য কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন।

চার্জশিটভুক্ত পাঁচ আসামি হলেন—কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা গ্রামের মো. সোহাগ (৩৪), আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার ইসমাইল হোসেন জনি (২৮) ও মো. সুজন (৩২), আমড়াতলী গ্রামের এমরান হোসেন হৃদয় (৩৪) এবং আড়াইওরা গ্রামের রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭)। বর্তমানে পাঁচ আসামিই কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসামি জনি, জুয়েল ও সুজনের নির্দিষ্ট স্থায়ী ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় অভিযোগপত্রে তাদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ

উল্লেখ্য, নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি সুশীল বৈরাগীর ছেলে। চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন বুলেট বৈরাগী। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড-সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা বুলেট বৈরাগীকে হত্যা করে তার সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নেয়।

মায়ের করা হত্যা মামলা

এ ঘটনায় নিহতের মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্র দাখিলের পর নিহত কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা আসামিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও বুলেট বৈরাগীর মা লিলিমা বৈরাগী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে চার্জশিটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি চান যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

আরও পড়ুন