বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই, ২০২৬

বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

RisingCumilla - Deaths due to lightning strikes
প্রতীকি ছবি/সংগৃহীত

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র-নিরোধক ব্যবস্থা সম্বলিত মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক দণ্ড ও আধুনিক সতর্কীকরণ অ্যালার্ম স্থাপন করা হবে, যাতে বজ্রঝড়ের সময় কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বজ্রপাত ক্রমেই একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এ কারণে সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক সহায়তাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Rising Cumilla - Government plans to build multipurpose shelters to reduce fatalities from lightning strikes.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু/ছবি: সংগৃহীত

তিনি জানান, প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বজ্রপাত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সরকার দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় ‘বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি রোধে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ’, ‘কৃষক ছাউনি’ এবং ‘বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় চলনবিল অঞ্চলের বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ হাওর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হাওর অঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে কৃষক এবং বর্ষাকালে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান। তাই ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে বজ্রপাতের জন্যও বিশেষ মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন