
‘টাকা আসে, ভবিষ্যৎ গড়ে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রবাসী পরিবার ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে ফেনীতে শুরু হয়েছে রেমিট্যান্স উৎসব ও ব্যবস্থাপনা মেলা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের পিটিআই মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বাউল গানের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে।
ইউএনসিডিএফ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত উৎসবে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির কান্ট্রি প্রজেক্ট ম্যানেজার সাদাত মাইনুদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ।
আবৃত্তিকার সৈয়দ আশরাফুল হক আরমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের সহকারী পরিচালক দিদার মিয়া, ফেনী টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জুনায়েদ এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মজিবুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাইফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে গিয়ে অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন। একসময় তারা দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়টি অনেক সময় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। এ কারণে সঞ্চয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য সরকারি বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পরে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল, ভিআইপি বুথ এবং ডিজিটাল রেমিট্যান্স ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সরাসরি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
আয়োজকেরা জানান, মেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মোট ২০টি স্টল রয়েছে। এসব স্টলে রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা, সঞ্চয়, আর্থিক সেবা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য ও সেবা দেওয়া হচ্ছে।
দিনব্যাপী আয়োজনে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা, অংশীদারদের বুথ পরিদর্শন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা এবং আর্থিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয় সঠিকভাবে সঞ্চয় ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এ উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য।









