শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

র‌্যাব বিলুপ্তির পর এসআরবির যাত্রা, পরিবর্তন আসছে যেসব জায়গায়

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - SRB-RAB
র‌্যাব বিলুপ্তির পর এসআরবির যাত্রা/ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

এলিট ফোর্স র‌্যাব বিলুপ্তির পর নতুন নামে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন আইনের অধীনে কার্যক্রম শুরু করলেও বাহিনীটির মূল কাঠামো, জনবল, অবকাঠামো ও কার্যক্রমে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বাহিনীটির নাম ও পরিচিতিতে। সরকারি কাজে এখন থেকে ‘র‌্যাব’-এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা ‘এসআরবি’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন লোগো, পোশাক ও পতাকা প্রবর্তনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে।

যা যা এসআরবিতে স্থানান্তরিত

র‌্যাবের নেতৃত্ব, জনবল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল, অবকাঠামো এবং সার্বিক কার্যক্রম নতুন সংস্থা এসআরবির অধীনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার, জব্দ, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ পরিচালনার মতো ক্ষমতাগুলোও মূলত র‌্যাবের আগের ক্ষমতার অনুরূপ রাখা হয়েছে।

নতুন আইনি কাঠামো

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬-এর অধীনে কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বাহিনীটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯-এর পুরোনো আইনি কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসেছে।

নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কর্মকর্তাদের জবাবদিহি ও তদারকির ক্ষেত্রেও নতুন কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

তবে নতুন আইনেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এসআরবিতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো জনবল, অবকাঠামোগত সুবিধা ও আইনগত ক্ষমতার বড় অংশ বহাল রেখে শুধু নাম ও আইনি কাঠামো পরিবর্তন করা হলে বাহিনীর কার্যক্রমে মৌলিক পরিবর্তন আনা কঠিন।

এ কারণে র‌্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নাম চালু হলেও নতুন বাহিনীটি কার্যত র‌্যাবের উত্তরসূরি হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা

শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা বা মানবাধিকারসংক্রান্ত উদ্বেগের অবসান হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমানের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার একটি দীর্ঘ ও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হয় না। নতুন সংস্থার কার্যক্রমও যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করবে বলে মনে করেন তিনি।

সরকার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির নতুন বিধান অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সহায়ক হবে।

এসআরবির মহাপরিচালক হাসান হাবীব পলাশ বলেন, নাম পরিবর্তন হলেও কাজের ধারাবাহিকতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। বরং জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর দিকে তারা এগোচ্ছেন। বিদেশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মানবাধিকারকর্মীদের সংশয়

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, কাগজে-কলমে র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও বাস্তবে এসআরবি নতুন মোড়কে পুরোনো বাহিনী হিসেবেই থাকছে। কারণ দুই বাহিনীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি নেই বলে তিনি মনে করেন।

২০০৪ সালে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও তৎকালীন বিডিআরের সমন্বয়ে র‌্যাব গঠিত হয়। শুরুতে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে বাহিনীটি আলোচনায় এলেও পরবর্তী সময়ে ক্রসফায়ার, গুম ও গোপন বন্দিশালার অভিযোগসহ নানা মানবাধিকার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব ও বাহিনীটির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর র‌্যাব বিলুপ্তির দাবিও জোরালো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে এসআরবি গঠন করা হলেও বাহিনীটির পুরোনো কাঠামো ও কার্যক্রমের বড় অংশ বহাল থাকায় এর প্রকৃত পরিবর্তন কতটা হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন