সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬

যে প্রক্রিয়ায় দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনা হবে বেনজীর আহমেদকে

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Benazir Ahmed
বেনজীর আহমেদ/ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুদকের মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশ অনুসারে গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএই বাংলাদেশকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি ঢাকা শাখায় পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার প্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ (নং-A-5174/4-2025) অনুযায়ী বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে দেশটির বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হলে আদালত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬’-এর ১১ ধারার আওতায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রত্যর্পণ অনুরোধ জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না হলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়তে পারে।

প্রত্যর্পণের জন্য যেসব নথি প্রয়োজন

আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত এবং যথাযথ স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে। সেগুলো হলো—

  • অভিযুক্তের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য।
  • অভিযুক্ত অপরাধের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সীমাবদ্ধতার বিধান।
  • বাংলাদেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের জারিকৃত আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
  • মামলার ঘটনা, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান উল্লেখসহ তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি।
  • অভিযুক্ত ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে আদালতের রায় এবং সাজা কার্যকরের আনুষ্ঠানিক নথি।
আরও পড়ুন