
ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করে হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার দুই গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতরে লাউতারো মার্টিনেজকে ফাউল করা হলেও রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। পরে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি।
অষ্টম মিনিটে স্পট কিক নিতে এগিয়ে যান মেসি। গোল করতে পারলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু অবাক করে দিয়ে ডান পোস্ট ঘেঁষে বল বাইরে পাঠান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটে মেসির আরেকটি প্রচেষ্টা অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের বাধায় ব্যর্থ হয়। ৩৩ মিনিটে প্রায় ফাঁকা জালে গোলের সুযোগ পেয়েও সফল হতে পারেননি তিনি। শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক ডেভিড আলাবা।
তবে ৩৮ মিনিটে আর ভুল করেননি মেসি। বাম দিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে নিজেই বল নিয়ে এগিয়ে এসে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল করেন তিনি এবং ছাড়িয়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। একই সঙ্গে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে আর্জেন্টিনা। ৬৩ মিনিটে এনজো ফের্নান্দেসের জোরালো শট প্রতিহত করে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ। ৭৪ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও গোল আসছিল না। অবশেষে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
জুলিয়ান আলভারেসের শট প্রতিহত করলেও ফিরতি বল পেয়ে যান মেসি। প্রথম শটটি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।
মেসির ইতিহাস গড়া জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্টের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।










