
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা দলের আসন পুনরুদ্ধার করেছে ব্রাজিল। এই জয়ের মাধ্যমে জার্মানিকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যা ছিল ২৩৭। অন্যদিকে জার্মানির গোল ছিল ২৩২। তবে গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর সাময়িকভাবে শীর্ষস্থান হারায় ব্রাজিল। একই সময়ে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি তাদের মোট গোলসংখ্যা ২৩৯-এ উন্নীত করে এবং তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।
শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন মাতেউস কুনিয়া। অপর গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কুনিয়ার একটি গোলে অ্যাসিস্টও করেন ভিনিসিয়ুস।
এই তিন গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২৪১-এ। ফলে জার্মানির ২৩৯ গোলকে ছাড়িয়ে দুই গোলের ব্যবধানে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা দলের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে সেলেসাওরা।
শুধু রেকর্ডই নয়, এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-র শীর্ষস্থানও দখল করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। গোল ব্যবধানে তারা মরক্কোকে পেছনে ফেলেছে। আগামী ২৪ জুন মায়ামিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২০০ বা তার বেশি গোল করতে পেরেছে মাত্র দুটি দল—ব্রাজিল ও জার্মানি। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনার গোলসংখ্যা ১৫২, যা শীর্ষ দুই দলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল (বর্তমান)
| দল | গোল |
|---|---|
| ব্রাজিল | ২৪১ |
| জার্মানি | ২৩৯ |
| আর্জেন্টিনা | ১৫২ |
| ফ্রান্স | ১৩৬ |
| ইতালি | ১২৮ |
হাইতির বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি
অন্যদিকে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে হাইতি। ১৯৭৪ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ক্যারিবিয়ান দেশটি। তবে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোনো সম্ভব হলো না তাদের।
শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে জয় পেলেও হাইতির সর্বোচ্চ অর্জন হতে পারত ৩ পয়েন্ট। একই সময়ে ব্রাজিলের কাছে স্কটল্যান্ড হারলে স্কটল্যান্ডেরও ৩ পয়েন্ট হতো। কিন্তু পয়েন্ট সমান হলেও হেড-টু-হেড নিয়মে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে থাকায় হাইতির পক্ষে শীর্ষ তিনে ওঠা সম্ভব নয়।
ফলে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেই ২০২৬ বিশ্বকাপে হাইতির স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল রেকর্ড, শীর্ষস্থান এবং নকআউটের সম্ভাবনা—সবকিছুই আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে যাচ্ছে শিরোপার লক্ষ্যে।










