
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভোরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে জুয়েল মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলোখ্খা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপুর গ্রামের আজগর আলী সরকার বাড়ি ও সফু সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৩০ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সফু সরকার বাড়ির লোকজনের একটি অংশ এলাকাছাড়া ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে সফু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে নরসিংদী থেকে লোকজন এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ সময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ককটেল ও একটি দেশীয় বন্দুক উদ্ধার করেছে।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নিহত জুয়েল মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।









