সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬

বন্যা মোকাবিলায় কুমিল্লাসহ ১১ জেলায় বিশেষ প্রস্তুতি, ছুটি বাতিল চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ব

RisingCumilla - Healthcare services strengthened in 11 eastern districts, including Cumilla; leave cancelled for doctors and health workers.
কুমিল্লাসহ পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, ছুটি বাতিল চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের/ছবি: সংগৃহীত

দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, একটি হাসপাতালের নিচতলায় বন্যার পানি ঢুকে পড়লে রাতেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, যাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এই ১১ জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাপে কাটায় আতঙ্ক নয়, হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান

বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সচেতন করা হচ্ছে। বন্যার প্রথম রাতেই পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ রয়েছেন।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেন্দ্রীয়ভাবে মজুত রয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশেষ প্রস্তুতি

স্বাস্থ্যসচিব জানান, বন্যাপরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের লক্ষ্য একটাই—বন্যার কারণে যেন একজন মানুষও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারান।” এ লক্ষ্যে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।

আরও পড়ুন