
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেছেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা শান্ত এবং নম্র হলেও সময়ের প্রয়োজনে প্রতিবাদী, প্রতিরোধী এবং বিজয়ী। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তারা প্রমাণ করেছে, দায়িত্ব পালনের সময় এলে তারা সাহসিকতার সঙ্গে নিজেদের ভূমিকা রাখতে সক্ষম।”
তিনি আরও বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে প্রশাসন কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ছাত্রীদের জন্য ‘অরুণিমা কর্নার’ প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে ক্যান্টিন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে একটি বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ১১জুলাই ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এ অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার।
অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন,“১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সাহস, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এদিনের প্রতিরোধ কেবল একটি ঘটনার স্মৃতি নয়। বরং অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রতীক।”
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা, মেধার মূল্যায়ন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিচারহীনতার অবসান, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।”
কুবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন,“২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। ইতিহাস শুধু আমাদের অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয় না, ইতিহাস আমাদের ভবিষ্যতের পথও দেখায়। প্রতিরোধের প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী হওয়া, প্রতিহত করা, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।”তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “ইতিহাসে অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ন্যায় ও মানবতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আগামী প্রজন্ম গর্ব করে এ দেশকে নিজেদের বলতে পারবে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “১১ জুলাই ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে মুখ্য আলোচক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিনবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আহত ৩৫ জন শিক্ষার্থী, পাঁচ জন সাংবাদিক, আন্দোলনে সহায়তাকারী ৮ জন স্থানীয় ব্যক্তি ও অংশগ্রহণকারী আরও ২১ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।










