শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ধানবীজ-চারা, মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস কৃষিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

RisingCumilla - Flood-affected farmers in Chattogram to receive paddy seeds and seedlings- 100% of livestock to be vaccinated within 15 days- Agriculture Minister.
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ধানবীজ-চারা, মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস কৃষিমন্ত্রীর

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকদের জন্য ধানবীজ ও চারা সরবরাহ এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে খুরা রোগ (এফএমডি) প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মন্ত্রী জানান, চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ধানবীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, তাদের হাতে দ্রুত বীজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে, সেখানে সরকারি উদ্যোগে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে পানি নেমে গেলে তারা দ্রুত রোপণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর খুরা রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আজ থেকেই বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যায় সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।

মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও খামারিদের মাঝে ধানবীজ, মৎস্য পুনর্বাসন উপকরণ, গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুকে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি এসব সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষক সহজে ফসল সংরক্ষণ করে উপযুক্ত সময়ে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন।

এ ছাড়া বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

এর আগে তিনি নিজ হাতে ধানবীজ বপন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানবীজ, মৎস্যচাষীদের পুকুর পুনর্বাসনের উপকরণ, খামারিদের গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুকে এফএমডি ও পিপিআর রোগের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন