
হেক্সা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করলেও প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল পায়নি ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি দলের অন্যতম তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই গোল হজম করে চাপে পড়ে সেলেসাওরা। পরে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনলেও জয় তুলে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ম্যাচ শেষে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সই বেশি ভাবাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকাকে।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ভিনিসিয়ুস বলেন, “আমার মনে হয়, আমি আরও ভালো খেলতে পারতাম। গোল করেছি ঠিকই, কিন্তু নিজের শতভাগ দিতে পারিনি। আক্রমণে আরও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। যদিও রক্ষণে কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছি।”
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মসমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা খুব খারাপ খেলেছি। শুরুতেই গোল হজম করায় ম্যাচ কঠিন হয়ে যায়। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। আমাদের বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়তে হবে, কারণ প্রতিপক্ষ রক্ষণে থেকে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করবে।”
আগামী ম্যাচ নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, “এখন কথার চেয়ে কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরের ম্যাচ খুব দ্রুতই চলে আসবে। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ সহজ নয়। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।”
অন্যদিকে দলের মিডফিল্ডার ডগলাস লুইজ প্রথম ম্যাচের ফলাফলে কিছু ইতিবাচক দিক দেখছেন। তিনি বলেন, “এটি ছিল আমাদের প্রথম ম্যাচ এবং প্রতিপক্ষও ছিল শক্তিশালী। আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি, তবে পিছিয়ে থেকেও ড্র করতে পারা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলো নিতে হবে এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে।”
গ্রুপ ‘সি’ থেকে প্রথম ম্যাচে ১ পয়েন্ট পাওয়া ব্রাজিল আগামী শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজিত হওয়া হাইতির বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়াই এখন ব্রাজিলের প্রধান লক্ষ্য।










