
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আর এই রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখতে জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে কুমিল্লা জেলা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে শীর্ষে রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সাম্প্রতিক তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লা জেলা থেকে মোট ৭৬ হাজার ৪৭৪ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। চলতি বছরেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত কুমিল্লা থেকে আরও ২০ হাজার ৯০৭ জন চাকরির ভিসায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে ২০২৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৬৭ হাজার ২১৪ জন, চাঁদপুর থেকে ৪২ হাজার ৯৭০ জন এবং নোয়াখালী থেকে ৪১ হাজার ৫৪ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। তবে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি থেকে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলা ও মহানগরের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সাতকানিয়া। ২০২৫ সালে এই উপজেলা থেকে ৩ হাজার ৮৯১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৩৪১ জন বিদেশ যাওয়ায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উপজেলাটি।
এছাড়া চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মধ্যে ফটিকছড়ি থেকে ৩ হাজার ৫৯৪ জন, রাঙ্গুনিয়া থেকে ৩ হাজার ২০৫ জন এবং মীরসরাই থেকে ২ হাজার ৬০৮ জন কর্মী গত বছর বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস চট্টগ্রামের প্রধান মহেন্দ্র চাকমা বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখন আরও সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম অফিস থেকেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুর—এই সাতটি দেশের চূড়ান্ত ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে কর্মীরা বেশি বেতন ও মর্যাদা পান। তাই বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীর মৃত্যু হলে তাৎক্ষণিক দাফন ও পরিবহন ব্যয় বাবদ ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা, সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি এবং বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অস্থিরতার প্রভাব থাকলেও ইউরোপ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।









