
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে কুমিল্লা সেক্টরের আওতাধীন সীমান্তবর্তী ১৭৬টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আট প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত থাকবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজার সার্বজনীন কালীবাড়ি মন্দিরের পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান বিজিবি কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান।
তিনি জানান, সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের কাছাকাছি পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবি সেক্টর কমান্ডার বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে ৬৫টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে। এসব বিওপির পাশাপাশি ছয়টি বেইস ক্যাম্প থেকে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্গম ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় দ্রুত টহল এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ ৩২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ১৪টি উপজেলার সীমান্তবর্তী আট কিলোমিটারের মধ্যে ১৫৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। অন্যান্য এলাকাসহ মোট ১৭৬টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
এ উপলক্ষে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও টহলব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মোতায়েন করা সদস্যদের পাশাপাশি রিজার্ভ প্লাটুনগুলোও পরিস্থিতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পূজা উদযাপন ফোরামের সভাপতি বাবু তাপস কুমার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
বিজিবি জানিয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।










