
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া এলাকায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে ইটবোঝাই একটি বাল্কহেডের ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের চালক, সুকানি, সহকারী ও ১৭ জন শ্রমিক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও নৌযানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দাউদকান্দিসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রোববার (২ আগস্ট) বাল্কহেডে থাকা শ্রমিক কাশেম মিয়া জানান, দুর্ঘটনার সময় সবাই সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাগে থাকা পোশাক, ঘুমানোর চাদরসহ প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র নদীতে হারিয়ে গেছে।
বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী জানান, ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ইট নিয়ে শনিবার ভোরে তারা যাত্রা শুরু করেন। সন্ধ্যায় দাউদকান্দির খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো সেতুটি ভেঙে বাল্কহেডের ওপর পড়ে। এতে নৌযানে থাকা সবাই সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাল্কহেডটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা ও বৃষ্টির কারণে বেইলি সেতুর পাটাতনগুলো মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। প্রায়ই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সেতু ধসে পড়ায় ওই সড়কে সরাসরি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে দাউদকান্দি উপজেলার পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।










