সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় আটক আরও ৩৫৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Another 353 people detained across 18 police stations in Comilla during anti-teen gang operations.
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় আটক আরও ৩৫৩ জন/ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের সপ্তম দফায় ৩৫৩ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এ নিয়ে চলমান অভিযানে জেলায় মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৭ জনে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার যেসব এলাকায় কিশোরদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব এলাকাকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও ডিবির সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়। এরপর ষষ্ঠ দফায় গত বৃহস্পতিবার রাতে আরও ২৫২ জনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ সপ্তম দফায় আটক করা হয়েছে ৩৫৩ জনকে। সব মিলিয়ে চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে জেলা পুলিশ। অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতেই এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন