শুক্রবার ৫ জুন, ২০২৬

“বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্ককে প্রস্তাব”

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Proposal to Turkey to establish a special economic zone in Bangladesh
"বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্ককে প্রস্তাব"/ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রণোদনা বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সফর বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তুরস্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের কথা উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্যও তুরস্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে অবস্থান করছেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সংকটের নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং তুরস্ককে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন