সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬

পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন শিক্ষিকা বিউটি রানী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

RisingCumilla - Beauty Rani Pal
বিউটি রানী পাল/ছবি: সংগৃহীত

রিল ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও সাইবার বুলিংয়ের মুখে পড়া সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল তার পাশে দাঁড়ানো শিক্ষক, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিউটি রানী পাল বলেন, “স্বাভাবিক ও সুন্দর একটি মুহূর্তের ভিডিওকে বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে আমাকে সাইবার বুলিং করা হচ্ছিল। অনেকে আমাকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি কৃতজ্ঞ।”

রিল ভিডিওটি নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহকর্মী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। অনেকেই একই গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করে সমর্থন জানান। পাশাপাশি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েও তার পক্ষে অবস্থান নেন অসংখ্য মানুষ।

সাইবার বুলিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর পর গত শুক্রবার ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিউটি রানী পাল। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, একটি ফেসবুক আইডি ও একটি ফেসবুক পেজ তার অনুমতি ছাড়া রিল ভিডিওটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছে। এতে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিউটির প্রতি সংহতি জানানো ব্যক্তিদের দাবি, তার প্রকাশিত ভিডিওতে কোনো অশ্লীল বা অনৈতিক বিষয় ছিল না। তাদের ভাষ্য, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত জীবনের স্বাভাবিক একটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই)। ওইদিন বিউটি রানী পাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তাকে শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটতে দেখা যায়। এরপর ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও ট্রল শুরু হয়।

তবে সমালোচনার মধ্যেই সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তার পাশে দাঁড়ান। সংহতি জানিয়ে অনেকে একই গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে সমর্থনের বার্তা দেন।

এদিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদও জানান, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে গতকাল সিলেট সফররত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নেই। তবে শুনেছি একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন, যেখানে কোনো অশ্লীলতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।”

আরও পড়ুন