
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার এ প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারার আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা সম্ভব হলে অনেক জটিলতার সমাধান সহজ হবে। পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে পৃথক একটি টাস্কফোর্সও গঠন করতে পারে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আলোচনার বিষয় ছিল প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান অব্যাহত রাখার উপায়।
আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি একজন জাতীয় নেতার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। প্রবাসীদের ‘বীরের মর্যাদা’ দেওয়ার প্রস্তাবের সঙ্গেও সরকার একমত। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।
তিনি জানান, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ৭৩টি বাংলাদেশি মিশনের মধ্যে ৭১টিতে ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রবাসীরা এখন এনআইডির পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়েও পাসপোর্টের আবেদন করতে পারছেন। তথ্যগত ভুল সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে। এছাড়া ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক কুরিয়ারের মাধ্যমে মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কারণে প্রবাসীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মালয়েশিয়া সফর করবেন। ওই সফরে দেশটির শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং বাংলাদেশ থেকে অধিক জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রধান দুই ভিত্তি। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের শুধু ‘শ্রমিক’ বা ‘মানবসম্পদ রপ্তানি’ হিসেবে নয়, বরং সম্মানজনক পরিচয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি আর্থিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স’-এর গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং প্রশাসনিক জটিলতার শিকার হন। দেশে ফিরে ন্যায়বিচার চাইতেও নতুন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া পাসপোর্ট নবায়ন ও এনআইডির সামান্য অসঙ্গতির কারণে হাজারো প্রবাসী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন।









