
বাংলাদেশে বসবাসরত ও বিদেশে থাকা প্রবাসীদের বাড়িঘর, অর্থ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে এ দাবিতে স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি। এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে দেশে ফিরে বা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় অনেক প্রবাসী নানা ধরনের হয়রানি ও অধিকারবঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক দখল করে রাখছেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব ঘটনায় দ্রুত আইনি প্রতিকারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেকে নিজেদের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে উল্লেখ করে এইচআরপিবি বলেছে, প্রবাসীদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত বিশেষ ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে ট্রাইব্যুনালের কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রবাসী ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে জেলা জজ বা সমমর্যাদার একজন বিচারক দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রবাসীরা সরাসরি অথবা ডিজিটাল মাধ্যমে দেশ কিংবা বিদেশ থেকে বাংলায় বা ইংরেজিতে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। অভিযোগের সঙ্গে সাদা কাগজে ১০০ টাকা বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার কোর্ট ফি সংযুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এইচআরপিবির প্রস্তাবে আরও বলা হয়, আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করতে হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করে রায় দিতে হবে। বিচারক প্রয়োজনে সরাসরি অথবা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে রায়ে প্রবাসীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলমুক্ত করার নির্দেশ থাকলে ওই আদেশ বাস্তবায়ন করেই আপিল করতে হবে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া কোনো প্রবাসীর জমি, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অর্থ বেআইনিভাবে দখলে থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে দখলকারীকে ওই সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয় অথবা সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর কোনো প্রবাসী চাইলে অন্য আদালতে চলমান তার অধিকার-সংক্রান্ত মামলা এই ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন করতে পারবেন বলেও প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
কোনো অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্তের প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল একজন জুডিশিয়াল অফিসারের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করিয়ে সেই প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। পাশাপাশি বিচার চলাকালে আবেদনকারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাইব্যুনালকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এইচআরপিবির স্মারকলিপি গ্রহণ করে জানান, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে এইচআরপিবির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরি, এ এইচ ইমরুল কাওসার, মো. মাহবুবুল ইসলাম, রিপন বাড়ৈ, মো. মজিবুর রহমান, সেয়দা শাহিন আরা লাইলি ও নাছরিন সুলতানা।










