
দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারা দেশে Employment Exchange Centre (কর্মসংস্থান কেন্দ্র) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে চাকরির তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
কাতার, ইউরোপ ও এশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৮ মে বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম জয়েন্ট কমিটির বৈঠকে কাতার বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে বিশেষ উদ্যোগ
তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে বোয়েসেলের মাধ্যমে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।
জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে জাপান সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলের আওতায় ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ভাষা প্রশিক্ষণে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনশক্তি রপ্তানির চাহিদা অনুযায়ী ভাষা প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করা হবে। বর্তমানে দেশের ৬০টি টিটিসিতে জাপানিজ, ইংরেজি, চাইনিজ ও কোরিয়ান ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
এদিন বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।









