
বিশ্ব ক্লাবফুট বা ‘মুগুর পা’ দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় বর্ণাঢ্য র্যালি এবং পরে অর্ক কেয়ার সেন্টারের সভাকক্ষে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাসের বাস্তবায়নে, মিরাকেলফিটের আর্থিক সহযোগিতায় এবং অর্ক কেয়ার সেন্টারের সার্বিক সহায়তায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১১টায় স্থানীয় যুব সমাজের প্রতিনিধি ও ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণে র্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় একটি বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ক্লাবফুট নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (আরপিটিআই), কুমিল্লার অধ্যক্ষ মো. রিয়াজুল হক বলেন, “সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ইউনাইটেড পারপাস ও অর্ক কেয়ার সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে চিকিৎসার অভাবে কোনো শিশুই পিছিয়ে থাকবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস বলেন, “মুগুর পা কোনো অভিশাপ নয় এবং এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও কারণ নেই। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আসে না। অথচ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে তারাও অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।”
ইউনাইটেড পারপাসের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ও অনুষ্ঠানের প্রধান ফ্যাসিলিটেটর সুমিত বণিক বলেন, “কুসংস্কার ও অজ্ঞতাই ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের স্বাভাবিক জীবনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। আমাদের লক্ষ্য কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে এসব ভুল ধারণা দূর করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।”
অর্ক কেয়ার সেন্টারের পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ক্লাবফুট কোনো স্থায়ী পঙ্গুত্ব নয়। জন্মের পরপরই বিশ্বস্বীকৃত ‘পনসেটি’ পদ্ধতির মাধ্যমে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।”
সভায় বক্তারা জানান, বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে আশার বার্তা দেওয়া এবং সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তারা বলেন, ক্লাবফুট হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী অভিভাবকরা ক্লাবফুট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় যুব সমাজের প্রতিনিধিরাও নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের এ ধরনের উদ্যোগ কুমিল্লা অঞ্চলে ক্লাবফুট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।










