বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৫০ দিনে ৫ টেস্ট, টানা ব্যস্ততায় বাংলাদেশ

রাইজিং স্পোর্টস

ছবি: এএফপি

ক্রিকেট মাঠে একটি সিরিজ শেষ হওয়ার পর সাধারণত কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পান খেলোয়াড়রা। তবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সামনে এখন সেই অবকাশ নেই। এক দেশ থেকে আরেক দেশ, এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাট—টানা ব্যস্ত সূচিতে সুটকেস গোছাতেই যেন সময় কাটছে টাইগারদের।

আগামী ৫০ দিনের মধ্যে পাঁচটি টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চারটি ম্যাচই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের ‘টেস্ট ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার ঘোষণার বাস্তব পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কঠিন এক সূচির মধ্য দিয়েই।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাপানে এশিয়ান গেমসের টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের ব্যস্ততা। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ এবং সবশেষে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর—সব মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক ক্রিকেট ম্যারাথন।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সিরিজগুলোর মধ্যকার বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময় নিয়ে। বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসের ফাইনালে উঠলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে প্রস্তুতি ও বিশ্রামের জন্য সময় পাওয়া যাবে মাত্র পাঁচ দিন।

একই পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পরও। সিলেটে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে।

বিষয়টি নিয়ে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান শাহরিয়ার নাফীসও সতর্ক। তাঁর মতে, সাদা বলের ক্রিকেটে এমন টানা ব্যস্ততার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের থাকলেও গত চার বছরে টেস্ট ক্রিকেটে এতটা ঠাসা সূচির মুখোমুখি হতে হয়নি দলকে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের ধকল কমাতে রোটেশন পলিসিকেই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশেষ করে দলের ছয় মূল পেসারের ফিটনেস ধরে রাখতে তাদের কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোতে টেস্ট দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের যথাসম্ভব বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। এতে টেস্টের জন্য মূল ক্রিকেটারদের সতেজ রাখার পাশাপাশি চোটের ঝুঁকিও কমানো যাবে বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

শুধু বিশ্রাম নয়, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আগাম প্রস্তুতির পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে যারা খেলবেন না, তাদের একজন কোচের তত্ত্বাবধানে আগেভাগেই দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে প্রোটিয়া কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ক্রিকেটাররা বাড়তি সময় পাবেন।

এদিকে এশিয়ান গেমসের দল নিয়েও চলছে প্রস্তুতি। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে পেসার হাসান মাহমুদের। অন্যদিকে পেসার খালেদ আহমেদকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অনুমতি দিয়েছে বিসিবি।

আরও পড়ুন