
দেশকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে দেশের সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রতি প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর এবং সেই গাছ সম্পর্কে জানার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় পর্যায়ে কবিতা আবৃত্তি, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ২১টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নৃত্যে সারাদেশে প্রথম হওয়া কুমিল্লার গুলবাগিচা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থী নির্ঝর দাস আদির হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া অন্য শিক্ষার্থীদের হাতেও পুরস্কার তুলে দেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকের আওতায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক, সনদপত্র ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে শিশু শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচির সূচনা হিসেবে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ করা হচ্ছে।
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমরা প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা স্কুলে হোক বা বাসার আশপাশে—যেখানেই সম্ভব একটি করে গাছ রোপণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, একটি গাছ কতটুকু অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং মানুষের কী কী উপকারে আসে, সে বিষয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে গবেষণা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে শিশুদের পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান বাড়বে এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলে লাগানো গাছ বড় হলে তা শিক্ষার্থীদের ছায়া দেবে এবং বিশ্রামের স্থান হবে। আর বাড়ির আশপাশে গাছ লাগালে পরিবেশ শীতল হবে, নির্মল বাতাস পাওয়া যাবে এবং জলবায়ু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি দিনটিকে স্মরণীয় উল্লেখ করে বলেন, “আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অনেকগুলো গাছ রোপণ করলাম।”
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









