
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের মিস্ত্রি পাড়ায় দ্বিতলা ভবন নির্মানকে কেন্দ্র করে অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. বদিউল আলম ও তার পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজ বসত ভিটায় প্রায় শেষের পথে থাকা দ্বিতলা ভবনের কাজ শেষ হওয়ার সময় মামলা ও অপপ্রচার করে মো. বদিউল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
আহম্মদপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্বা নাছির উদ্দিন মাষ্টারের প্রথম স্ত্রীর একমাত্র পুত্র সন্তান অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. বদিউল আলম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই পুত্র সন্তানের মাঝে মো. আশরাফুল আলম সুমন সরকার থাকেন প্রবাসে আর রবিউল আলম পুলিশের চাকরি সূত্রে আছেন সিলেটে। তাদের পৈতৃক ভিটায় প্রবাসী মো. আশরাফুল আলম সুমন সরকার দীর্ঘদিন আগে দালান তুলে রাখলেও বাকি দুই ভাইয়ের কোনো দালান কোঠা ছিল না। পুলিশ সদস্য রবিউল আলমের ভিটি ছিলো খালি। পরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. বদিউল আলম তার নিজ ভিটায় দ্বিতলা দালানের কাজের প্রায় শেষ পর্যায়ে আসলে বাঁধে বিপত্তি। তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও অপপ্রচার ছড়াতে থাকেন বলে জানা যায়।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. বদিউল আলম জানান, আমার নিজের জায়গায় বিল্ডিং তুলতেছি। কাজও প্রায় শেষের দিকে। এমন সময় আমার গোষ্ঠীর চাচা ওসমান হারুন আর আমার ছোট ভাই প্রবাসী আশরাফুল আলম সুমন সরকারের বউ মিলে আমাদের নামে একের পর এক অভিযোগ ও মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি যখন দালান তুলি তখন বাঁধা না দিয়ে এখন কাজের শেষ পর্যায়ে এসে তারা আমার সাথে ঝামেলা করতেছে। ফেসবুকে নানা বাজে কথা ছড়িয়ে দিতেছে। বাসায় বার বার পুলিশ আসে-যায়। আমি নিজের শ্রমের টাকা দিয়ে এক ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছি আরেক ভাইকে পুলিশের চাকরির জন্য যা করা লাগে তা করার চেষ্টা করেছি। কখনোই তাদেরকে আমি সৎ ভাই মনে করি নাই। আমার এক ছেলেও আর্মির অফিসার লেভেলে ছিলো পরে চাকরি ছেড়ে লন্ডনে আছে। সেখানকার সিটিজেন সে। একটা মেয়ে আমার সাথে থাকে। তার স্বামীও প্রবাসে। আমাদের ভাইদের জায়গা-জমি নিয়ে আমার গোষ্ঠীর চাচা ওসমান হারুন চাচার কাজটা কি! উনি কেন আবার অভিযোগ করলেন! আমার ধারনা, আমাদের ভাইদের মধ্যে উনিই ঝামেলা লাগানোর চেষ্টা করছেন। অথচ আজ না হউক কাল আমরা ভাইয়েরা এক হবো।
আমি আপনাদের মাধ্যমে (সাংবাদিক) মাননীয় এমপি ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি, আমি যদি জোর-জবরদস্তি করে কোনো কিছু করি তাহলে আমাকে শাস্তি দিন। এভাবে মামলা-হয়রানিতে আমি লজ্জিত। আমি এর সুবিচার চাই।
মো. বদিউল আলমের একমাত্র মেয়ে স্বর্ণা সরকার জানান, আব্বা অবসরের পর আমরা বাড়িতে থাকি। আমার পুলিশ চাচা ও প্রবাসী চাচাদের কেউ বাড়িতে থাকেন না। আমি মেয়ে মানুষ, সারাক্ষণ এখন আতঙ্কে থাকি। আমি পুকুরে গোসল করতে গেলে প্রতিবেশী দাদারা বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করে। হুমকি দেয়। আমার নামে পাড়ায় কুৎসা রটায়। ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারি না।
মো. বদিউল আলমের ছোট ভাই পুলিশ সদস্য রবিউল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বড় ভাই মো. বদিউল আলম নিজ জায়গায় বিল্ডিং তুলতেছেন। বিল্ডিংয়ের জায়গাটা উনার। উনারা ছাপরা ঘর তুলে এখন আমার জায়গায় আছেন। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।
প্রতিবেশী মনিরুল আলম বলেন, আমরা কোনো কিছু বলতে গেলে পরে ঝামেলা আমাদের উপর এসে পরবে। তবে আমরা জানি যার যার জায়গায় তারা ঘর তুলতেছে কিন্তু আমরা তো আর দাগ নাম্বার বলতে পারবো না।
প্রতিবেশী প্রিয়বন্ধু সূত্রধর বলেন, তারা-তারা, ভাইয়ে ভাইয়ের ব্যাপার। এখন বিল্ডিং তোলার সময় যদি বাঁধা দিতো তাইলে ভালো ছিলো। এখন তো বিল্ডিং প্রায় শেষের কাছে। এখন কি কারনে বাঁধা দিতাছে জানি না।
এদিকে প্রতিবেশী ওসমান হারুন ও অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. বদিউল আলমের ছোট মেজো ভাই আশরাফুল আলম সুমন সরকার ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









