
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ী ঋষি পাড়ায় মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারকে কেন্দ্র করে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ মামলাবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিচার দাবি করেন। এ সময় তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে ঋষি পাড়াস্থ শ্রী শ্রী কালি মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী অর্চনা রানী ঋষি মন্দিরের কমিটির লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কতিপয় ব্যক্তিদের যোগসাজশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক, বানোয়াট একের পর এক মিথ্যা মামলা করে আসছে।
অর্চনা রানী মন্দিরের জায়গাটিতে নিজের জায়গা আছে বলে দাবি করে কোনো প্রমাণ করতে না পারার পরও মন্দিরের কমিটিতে থাকা লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা-বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।
কালিপদ ঋষি বলেন, আমি ২০১৬ সাল থেকে মন্দিরের কমিটির সভাপতি। এই মন্দিরের জায়গা আত্মসাতের জন্য অর্চনা রানী ঋষি আমার নামে ও বিমল ঋষির নামে ধর্ষণের মামলা দেয়। এতে আমি ১ মাস জেল খেটে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্ত হই। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে আমার ছেলের নামে ও নাতির নামে ধর্ষণ মামলা ও অপহরণ মামলা দেয়। এই মহিলার যন্ত্রণায় আমরা সুষ্ঠভাবে বসবাস করতে পারছি না। মাননীয় সাংসদ ও প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন করছি আমাদেরকে এই মহিলার কাছ থেকে বাঁচান।
ফুলমতি রানী ঋষি বলেন, অর্চনা রানী নারী নির্যাতন মামলা দিতাছে। পোলাপাইনরে হয়রানি করতাছে। পুলিশ লইয়া ঘুরাঘুরি করতাছে। নিজের পুতেরে নিজে সামলাইয়া থুইয়া আবার কইতাছে আমরা বলে মাইরা ফালাই থুইয়া রাখছি।
মমতা রানী ঋষি বলেন, অর্চনা ঋষি আর তার জামাই মিল্লা পুরা গ্রামের মানুষরে হয়রানি করতাছে। গাওডারে তছনছ কইরা লাইতাছে। আমরারে মন্দির তুলবার দিতাছে না, বাধা দিতাছে। যাইয়া যাইয়া পুলিশ লইয়া আইয়ে।
সুদর্শন চন্দ্র ঋষি বলেন, মন্দিরের জায়গা নিয়া দীর্ঘদিন ধইরা অর্চনা রানী ঋষি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতাছে। গেছে কাল আমার ভাই-ভাতিজার নামে মিথ্যা ধর্ষনের মামলা করছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট। আমরা চাই প্রশাসন তদন্ত কইরা এর বিচার করুক।
কাজল চন্দ্র ঋষি বলেন, আমরা উনার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ। আমরা লুকায়া থাহা লাগে। আমরা উনার কাছ থেকে মুক্তি চাই। উনার জন্য আমরা মন্দিরে কোনো কাজ করতে ফারি না। পূজা দিতে ফারি না। কোনো কাজ করতে গেলেই ক’ আমরা মারতে গেছি। ফরে মামলা অ কইরা দে।








