
সরকার ভালো কাজের উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে সহযোগিতা করা হবে, তবে দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৯ মে) সকালে জাপান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকারের কোনো ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে এটিই হবে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা।
জাপান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জাপান বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাদের কাছে বর্তমান সংসদ আগের সংসদগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে, তেমনি প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহযোগিতাও করছে। সবাই যদি দেশকে ভালোবাসে, তাহলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।”
বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক ক্যান্সার রোগী থাকলেও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “দেশে যে কয়েকটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও আধুনিক সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে অনেক রোগীকেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। আর যাদের সেই সামর্থ নেই, তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান।”
এ পরিস্থিতিতে জাপানের সহযোগিতায় বাংলাদেশে একটি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, “শুধু হাসপাতাল নয়, একটি ইনস্টিটিউট গড়ে উঠলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশেই দক্ষ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ তৈরি করা সম্ভব হবে। জাপান বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে আমরা আশা করছি।”
এদিকে, জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে থাইল্যান্ড সফরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান জানান, বর্তমানে থাইল্যান্ডে ৬৪ জন জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ প্রায় এক বছর ধরে সেখানে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, “নৈতিক দায়িত্ব, মানবিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের জায়গা থেকে আমরা তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।”
সফরকালে তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন জামায়াত আমির।









