বুধবার ২০ মে, ২০২৬

কৃষিখাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Agriculture sector is being reorganized through planning to bring it under control- Agriculture Minister
কৃষিখাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী/ছবি: সংগৃহীত

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, কৃষিখাতকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি মো. আহসানুজ্জামান লিন্টু-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কৃষিপণ্যের প্রকৃত চাহিদার তথ্য না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিপণ্যের অপচয় বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তারাও সঠিক দামে পণ্য পাচ্ছেন না।

তিনি জানান, এ সমস্যা সমাধানে সরকার ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং বর্তমানে এর পাইলট কার্যক্রম চলছে। পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে চাহিদাভিত্তিক উৎপাদন নিশ্চিত হবে এবং কৃষিপণ্যের অপচয় কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “গবেষণা ছাড়া কৃষি অচল।” তিনি কৃষিখাতে গবেষণা ও বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিদ্যমান বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সরকার বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন, বিপণন, প্রণোদনা, নতুন জাতের সম্প্রসারণ ও যান্ত্রিকীকরণসহ কৃষির প্রতিটি খাতকে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।

সেমিনারে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি পোলট্রি খাতের টেকসই উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ক্ষুদ্র খামারিদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে। পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও উত্তরণের তিন ধাপে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোলাম হাফিজ কেনেডি এবং ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান

আরও পড়ুন