
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের আরও পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে জেলার কোতোয়ালি, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মারামারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কোতোয়ালি থানা এলাকার স্ম্যাশ স্কোয়াড গ্রুপের জিসান (১৯)। তিনি নগরীর তেলিকোনা এলাকার জিলানীর ছেলে। একই গ্রুপের সাইফুল ইসলাম (২০)। তিনি শহরতলীর আড়াইওড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১২০৭ গ্যাংয়ের মো. তারেক হোসেন সৈকত (১৯)। তিনি উপজেলার নলিশ্বর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। একই গ্রুপের মো. জাফর আহমদ (২৩)। তিনি উপজেলার কোমারডোগা গ্রামের মো. আলীর ছেলে।
এ ছাড়া মনোহরগঞ্জ উপজেলার পিএক্স ১০ গ্রুপের মো. শাকিব (১৭)। তিনি উপজেলার পোমগাঁও গ্রামের তবু মিয়ার ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের দিকনির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সর্বশেষ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ দিনের পৃথক অভিযানে দুই সহস্রাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে ১ হাজার ২০৯ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।










