
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫২ কে আটক করেছে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কুমিল্লা নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের আনাগোনা রয়েছে—এমন স্থান এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। এতে পুলিশের একাধিক ইউনিটের সদস্যদের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান জানান, বিশেষ অভিযানে মোট ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর আগে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একাধিক গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধপ্রবণতা কমানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এলাকায় ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ইতিমধ্যে জেলায় কয়েক দফায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে।











