
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের স্বল্প পেন্নাই গ্রামে এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি ব্যতিক্রমী বসতঘর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। মাত্র পাঁচ ফুট চওড়া হলেও ৮৫ ফুট দীর্ঘ এই ঘরে রয়েছে রান্নাঘর, শোবার কক্ষ, খাবার রাখার স্থান, পোশাক সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং শৌচাগরসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা।
ঘরটির মালিক সৌদি আরব প্রবাসী মো. শাহজালাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘরটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে জায়গার ওপর ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি আগে নিচু ডোবা ছিল। পরে জায়গাটি ভরাট করে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে টিনের ছাউনি ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘরটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটাই শাহজালালের পরিবারের একমাত্র স্থায়ী বসতঘর।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের সামনের অংশে রান্নাঘর। এরপর খাবার রাখার ও খাওয়ার স্থান। মাঝামাঝি অংশে রয়েছে ছোট একটি শোবার কক্ষ। তার পর রয়েছে আলমারি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার জায়গা। একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে পানির মোটর ও শৌচাগার।
শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, “অনেক বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছি। কখনো আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কখনো ভাড়া বাসায় থাকতে হয়েছে। নিজের ছোট্ট হলেও একটি ঘর হয়েছে”
কুমিল্লা নগরী থেকে ঘরটি দেখতে আসা মো. নাঈম হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে কৌতূহল হয়েছিল। বাস্তবে এসে দেখলাম, খুব অল্প জায়গাকে কীভাবে পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় তার দারুণ একটি উদাহরণ এটি।”
প্রতিবেশী আবদুল মিয়া বলেন “শাহজালালের পরিবার দীর্ঘদিন কষ্ট করেছে। এখন নিজেদের একটি ঠিকানা হয়েছে, এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। ছোট ঘর হলেও এটি তাদের নিজেদের ঘর।”
আরেক প্রতিবেশী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাড়িটি দেখতে আসছেন। গ্রামের অনেকেই দর্শনার্থীদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসছেন। ছোট্ট এই ঘর এখন পুরো এলাকার পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছে।”
গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা আক্তার বলেন, “এলাকায় জমির দাম তুলনামূলক বেশি। তাই সীমিত সামর্থ্যের মানুষের পক্ষে বড় জায়গা কেনা সম্ভব হয় না। তাই শাহজালাল বাধ্য হয়ে অল্প জায়গার মধ্যেই পরিবারের জন্য একটি বসতঘর নির্মাণ করেছেন।”










