বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

সংসদে কুমিল্লা বিভাগ ও ময়নামতি উপজেলা চাইলেন এমপি জসিম উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Cumilla Division-Jasim Uddin
ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

জাতীয় সংসদে আবারও কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন। একইসঙ্গে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বুড়িচং উপজেলার ‘ময়নামতি’ ইউনিয়নকে নতুন একটি উপজেলা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব দাবি উত্থাপন করেন।

আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বিগত সরকারের দুই দশকের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৫সহ পুরো কুমিল্লার মানুষের ৪২ বছরের প্রাণের দাবি হলো ‘কুমিল্লা বিভাগ’।

তিনি আরও বলেন, এই বিভাগ ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে নানা সময় ষড়যন্ত্র হয়েছে, সংসদে হাসি-তামাশা করা হয়েছে এবং দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে এখন সময় এসেছে বৃহত্তর কুমিল্লার মানুষের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের।

কুমিল্লা শহরের যানজট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, একসময় শহরটি ভয়াবহ যানজটের কবলে ছিল এবং চলাচলের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের কার্যক্রমে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৫-কে অত্যন্ত অবহেলিত উল্লেখ করে বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরবর্তী অঞ্চল এবং বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, কুমিল্লার সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মনিরুল হক চৌধুরীসহ কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এই বিভাগ প্রতিষ্ঠা।

ময়নামতিকে উপজেলা করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময় থেকেই ময়নামতিকে উপজেলা করার দাবি ছিল।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, একটি সীমান্তবর্তী সড়ক রয়েছে যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার কমিয়ে দেয়। সড়কটি একনেকে অনুমোদন পেলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। একইসঙ্গে তার দুই উপজেলার সংযোগ সড়কটি মাত্র ১০ ফুট প্রশস্ত, যা চলাচলের জন্য অনুপযোগী।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভায় ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা দিলেও ময়নামতিতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা ৫০ একর জমির প্রকল্পটি পরে বাতিল করা হয়। বর্তমানে জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি অনুরোধ জানান, এই জমির ওপর একটি ছোট ইপিজেড স্থাপন করা হোক।

বন্যার সময় তার এলাকার রাস্তাঘাট ও কালভার্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সে সময় জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস প্রেসিডেন্টসহ দলটির নেতাকর্মীরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, তার এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। তিনি দ্রুত এসব মহাসড়কের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য যোগাযোগমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সবশেষে তিনি সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিজের সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন