বুধবার ৮ জুলাই, ২০২৬

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

রাইজিং স্পোর্টস

RisingCumilla - Argentina reach quarter-finals after beating Egypt in a nail-biting match.
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা/ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের একপর্যায়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-২ ব্যবধানে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা মিসর ছিল অনেক বেশি গোছানো। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা দলটি ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যায়। শর্ট কর্নার থেকে মারওয়ান আত্তিয়ার নিখুঁত ক্রসে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে হারিয়ে দারুণ এক হেডে জাল খুঁজে নেন ইয়াসের ইব্রাহিম।

গোল হজমের পর ১৯ মিনিটেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক নিতে আসেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ডান কোণ লক্ষ্য করে নেওয়া তাঁর শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের।

পেনাল্টি মিসের পর আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। ২৮ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, ৩১ মিনিটে মেসির দূরপাল্লার শট এবং ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের নিশ্চিত গোলের সুযোগ—সবকিছুই রুখে দেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শোবের। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিসর।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিল মিসর। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগে আক্রমণ গড়ার সময় মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে ফাউল করেছিলেন। সেই কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

তবে হতাশ হয়নি মিসর। ৬৭ মিনিটে মোহামেদ সালাহর তৈরি করা আক্রমণ থেকে হাসিম হাসানের পাস পেয়ে দারুণ এক শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন মোস্তাফা জিকো। এবার আর ভিএআরের বাধা আসেনি, ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করে আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান কমান রোমেরো।

চার মিনিট পরই সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। ৮৩ মিনিটে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে শক্তিশালী শট নেন লিওনেল মেসি। গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের বল স্পর্শ করলেও তা গোললাইন অতিক্রম করে জালে জড়িয়ে যায়।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের লং বল থেকে ডান প্রান্তে বল পান লাউতারো মার্তিনেজ। তাঁর নিখুঁত ক্রসে বক্সে উঠে এসে শক্তিশালী হেডে জাল কাঁপান এঞ্জো ফার্নান্দেজ।

শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে মিসরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

আরও পড়ুন