
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৈকরই, ভাড়ারুয়া, দেরপাড়, নগরকান্দি, উজানী, কড়ইয়া ও বরুচরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের লাখো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়কটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল এবং সড়কের একদম কোল ঘেঁষে থাকা পুকুর থেকে বারবার অপরিকল্পিতভাবে পানি সেচ দেওয়ার কারণে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধসে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের আশঙ্কা, যদি অনতিবিলম্বে এই সড়কটি সংস্কার ও সুরক্ষায় কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে এটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে যোগাযোগের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণের কাছ থেকে জানা গেছে, বর্তমান বর্ষা মৌসুমে সড়কের এই করুণ দশা আরও বেশি মারাত্মক ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙাচোরা এই রাস্তাটি দিয়েই প্রতিদিন শত শত সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং সাধারণ ইজিবাইকের পাশাপাশি ইট, বালু, রড ও সিমেন্টবোঝাই বিশাল সব ড্রাম ট্রাক ও ভারী যানবাহন অবলীলায় চলাচল করছে।
এতে করে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল অংশগুলো দিন দিন আরও বেশি দেবে যাচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত বড় ধরনের কোনো প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাকে বাড়িয়ে তুলছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সড়কের একদম পাশেই অবস্থিত একটি ব্যক্তিগত পুকুরের মালিক সম্পূর্ণ অপেশাদার ও খেয়ালখুশি মতো মাছ চাষের উদ্দেশ্যে নিয়মিত বিরতিতে পুকুরের পানি পুরো সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলছেন এবং আবার নতুন করে পানি ভর্তি করছেন।
বছরের পর বছর ধরে এভাবে বারবার বিপুল পরিমাণ পানি নিষ্কাশন ও পুনরায় পানি ধারণের ফলে সড়কের নিচের তলদেশের মাটি একদম আলগা ও নরম হয়ে ধসে পড়ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে থাকা সত্ত্বেও এবং দীর্ঘদিন ধরে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো আইনি উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভের সাথে জানান যে, সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সাধারণ কর্মজীবী মানুষ এবং মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও ভোগান্তি।
যদি অতি দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা না হয়, তবে এই সাতটি গ্রামের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে ইট, বালু ও রডের মতো ভারী মালবাহী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সেই সাথে যেসব দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামীণ এই সরকারি সম্পত্তি ও সড়কের এমন অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার এবং সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তারা।










