
রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাপ্তাহিক কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো উন্নত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সড়কের মিডিয়ান, দ্বীপ ও খোলা স্থানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নগর বনায়নের অংশ হিসেবে ‘মিয়াওয়াকি ফরেস্ট’ গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গাগুলোতেও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু এবং ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও নির্মাণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকার চারপাশে অবস্থিত অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে ইটভাটা ও খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নদী ও খাল দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীসহ ঢাকার ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪১ হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।







