শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

বিয়ের বাড়তি খরচে ভরসা হতে পারে ‘বিবাহ ঋণ’, শর্ত মানলে নিতে পারবেন আপনিও

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla - Wedding
প্রতীকি ছবি/পেক্সেল

বর্তমানে বিয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে ‘বিবাহ ঋণ’ বা বিশেষ পার্সোনাল লোনের দিকে ঝুঁকছেন দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষ। বিয়ের খরচ, বাসা সাজানো কিংবা অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ভোক্তা ঋণের আওতায় এই সুবিধা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট কোনো সরাসরি নির্দেশনা না থাকলেও কিছু ব্যাংক ‘ম্যারেজ লোন’ নামে এবং অনেকেই সাধারণ ব্যক্তিগত ঋণের মাধ্যমে এই চাহিদা পূরণ করছে।

ব্যাংকভেদে ঋণের সীমা ও শর্তে রয়েছে ভিন্নতা। এনসিসি ব্যাংক ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করছে, যার মেয়াদ ১ থেকে ৫ বছর। এ ক্ষেত্রে চাকরিজীবীদের মাসিক ন্যূনতম আয় হতে হবে ৩০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) ও ইউসিবি সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা নিতে পারেন।

উত্তরা ব্যাংক তুলনামূলক ছোট পরিসরে ২৫ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে, যা ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য।

এই ঋণের জন্য আবেদন করতে হলে থাকতে হবে নিয়মিত আয়ের উৎস। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, সদ্য তোলা ছবি এবং আয়ের প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও ৬ থেকে ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মস্থল থেকে অনাপত্তি সনদও (এনওসি) লাগতে পারে।

তবে সবাই এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন। অনিয়মিত আয়, দুর্বল ব্যাংক লেনদেন বা পূর্বের ঋণ খেলাপি থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সময়ে বিয়ের ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সাধারণ মানুষের ওপর থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এখনো সব ব্যাংক পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় অনেক গ্রাহককে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুন