
যে বয়সে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী কলেজে ভর্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, সে বয়সেই বাবার জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১৮ বছর বয়সী আলী রাজা।
ভারতের দিল্লিতে বসবাসকারী আলীর বাবা, ৪৯ বছর বয়সী আবিদ রাজার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার একমাত্র উপায় ছিল কিডনি প্রতিস্থাপন।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপযুক্ত দাতা খোঁজা হলেও কারও কিডনির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বাবার শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ান ছেলে আলী রাজা।
আলী বলেন, “বাবার জীবন বাঁচাতে দাতা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আমাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। তিনি আমাকে এই পৃথিবীতে এনেছেন। তাকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি বলেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে প্রতিস্থাপনের পথে বড় একটি বাধা ছিল। বাবা ও ছেলের রক্তের গ্রুপ আলাদা হওয়ায় এটি ছিল ‘এবিও-ইনকম্প্যাটিবল’ কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট, যা সাধারণ কিডনি প্রতিস্থাপনের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।
দিল্লির পাটপড়গঞ্জের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. পরেশ জৈনের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল এই জটিল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, আবিদের কিডনি বিকলের কারণও ছিল ব্যতিক্রমী। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নয়, বরং একটি বিরল অটোইমিউন রোগের কারণে তার কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
ডা. পরেশ জৈন জানান, একসময় রক্তের গ্রুপ না মিললে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রায় অসম্ভব বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির কারণে এখন রক্তের গ্রুপ ভিন্ন হলেও সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মানুষের জানা উচিত যে, কেবল রক্তের গ্রুপ মিললেই কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব—এ ধারণা এখন আর পুরোপুরি সত্য নয়। আধুনিক চিকিৎসায় এবিও-ইনকম্প্যাটিবল এমনকি এইচএলএ-ইনকম্প্যাটিবল ট্রান্সপ্ল্যান্টও সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।”
সফল অস্ত্রোপচারের পর চার দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান আলী। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন।
অস্ত্রোপচারের আগে খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় বেশ আগ্রহী ছিলেন আলী। তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এসব কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন।
আলী বলেন, “এখন হয়তো আগের মতো খেলাধুলা করতে পারছি না, কিন্তু নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব আমি নতুন করে উপলব্ধি করেছি।”
চিকিৎসকদের আশা, একটি কিডনি নিয়েই আলী দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে তার দান করা কিডনি আবিদ রাজার শরীরে দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে বলেও আশাবাদী তারা।










