
কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ‘মর্ডান ড্রাগ’ নামে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন ২১ ধরনের ওষুধ, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক জুবায়ের ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে বিসিক শিল্পনগরীর কারখানাটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, এনএসআই এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানকালে তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির নামে মাত্র দুটি ওষুধ উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে সেখানে ২১টিরও বেশি ধরনের ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল। এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
এছাড়া কারখানাটিতে কোনো অনুমোদিত টেকনিশিয়ান বা যোগ্য কারিগরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল, যা বিদ্যমান ওষুধ উৎপাদন নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান জানান, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে উপস্থিত ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কুমিল্লা কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার জানান, জব্দ করা ২১ ধরনের ওষুধের একটিরও বৈধ উৎপাদন অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া কারখানাটিতে কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ওষুধ উৎপাদনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে শিশুদের জন্য প্রস্তুতকৃত কিছু ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এসব ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম স্বীকার করেন, তাদের কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও অন্তত ১৫ ধরনের ওষুধ তৈরির কোনো সরকারি অনুমতি ছিল না।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ ধরনের অবৈধ ও অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা হাসান মাহমুদ, এনএসআইয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রতিনিধি এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।










