
ভারতীয় এবং ভারত-নিয়ন্ত্রিত সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে পাকিস্তান। দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (পিএএ) নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৬ জুন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে বর্ধিত মেয়াদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সামরিক ও বাণিজ্যিক—উভয় ধরনের ভারতীয় উড়োজাহাজ থাকবে। এছাড়া ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর ইজারা নেওয়া উড়োজাহাজও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।
গত বছরের এপ্রিলে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশপথ বন্ধ করে দেয়। তবে ইসলামাবাদ শুরু থেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
পরবর্তীতে গত বছরের ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। পাকিস্তানের দাবি, ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে ভারত তাদের কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
পাকিস্তান দাবি করে, ওই অভিযানে ভারতের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ আটটি যুদ্ধবিমান এবং কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৮৭ ঘণ্টাব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতের বিমান পরিবহন খাত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৯ সালের কার্গিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছিল। তখনও ভারতের বিমান পরিবহন খাতই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সূত্র: জিও নিউজ










