
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তালিকা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
তিনি জানিয়েছেন, তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে সরকার।
শনিবার সকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষি বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জনবল ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। তিনি বলেন, এবার বোরো ধান কাটা শেষ হলেও নতুন করে রোপণ করা আমনের চারার কিছু অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে এসব চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রোপণ করা আমনের প্রায় ২৫ শতাংশ চারা বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় বীজ ও চারা সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে উঁচু এলাকায় নতুন করে চারা উৎপাদনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোন এলাকায় কত জমি পানির নিচে গেছে এবং পুনরায় রোপণের জন্য কত চারা প্রয়োজন—এসব তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকদের ঘরে পর্যাপ্ত বীজ না থাকলে সরকার চারার মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করবে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, শুধু ধানচাষিই নয়, মৎস্যচাষি, সবজি চাষি, পান, নারিকেল ও সুপারি চাষিসহ সব ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কৃষি কার্ডের আওতায় এনে সহায়তা দেওয়া হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও লুটপাটের সংস্কৃতি থেকে অনেকেই এখনও বের হতে পারেননি। তবে সরকার এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে একটি র্যালি বের করা হয়।










