রবিবার ১০ মে, ২০২৬

ফোনে মেসেজ এলেই দ্রুত রিপ্লাইয়ের অভ্যাসে বাড়ছে মানসিক চাপ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রতীকি ছবি/সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফোনে মেসেজ আসার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকেই সব কাজ ফেলে দ্রুত উত্তর দেন। অনেকে এটিকে ভদ্রতা বা দায়িত্বশীল আচরণ মনে করলেও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ খাওয়া, কাজ কিংবা বিশ্রামের সময়েও শুধু নোটিফিকেশনের শব্দ শুনেই ফোন হাতে তুলে নেন। কারণ মেসেজ দেখেও উত্তর না দিলে ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করতে থাকে।

মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে বলা হয় “অসম্পূর্ণ পরিস্থিতির চাপ”। অর্থাৎ, মানুষের মস্তিষ্ক কোনো অসম্পূর্ণ বিষয় সহজে মেনে নিতে পারে না। ফলে মেসেজ দেখে উত্তর না দিলে সেটি বারবার মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে।

বিশেষ করে যাদের মানসিক উদ্বেগ বেশি, তারা দ্রুত রিপ্লাই না দিলে নানা ধরনের দুশ্চিন্তায় ভুগতে শুরু করেন। যেমন—অন্যজন রাগ করলো কি না, ভুল কিছু বলা হয়েছে কি না কিংবা সম্পর্কের অবনতি হবে কি না—এসব চিন্তা তাদের মনে ঘুরপাক খেতে থাকে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক সময় দ্রুত রিপ্লাই করা ভদ্রতার চেয়ে নিজের মানসিক অস্বস্তি কমানোর চেষ্টাই বেশি। এতে মানুষ সব সময় এক ধরনের মানসিক চাপে থাকে। ফোন তখন শুধু হাতে নয়, মাথার মধ্যেও সারাক্ষণ সক্রিয় থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সবসময় দ্রুত উত্তর দেওয়ার অভ্যাস থেকে মানসিক ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে মানুষ নিজের ব্যক্তিগত সময়ও ঠিকভাবে উপভোগ করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মেসেজ এলেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না দিয়ে কিছুটা সময় নেওয়া উচিত। নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—এখনই উত্তর দেওয়া সত্যিই জরুরি, নাকি শুধু অস্বস্তি এড়াতেই রিপ্লাই দেওয়া হচ্ছে?

তাদের মতে, একটু দেরিতে উত্তর দেওয়া কোনো অভদ্রতা নয়। বরং এটি নিজের সময় ও মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়ারই একটি ইতিবাচক অভ্যাস।

আরও পড়ুন