
ফেনীবাসীর উদ্দেশে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে। যাত্রীরা যত বেশি টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করবেন এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করবেন, তত বেশি এ এলাকায় রেলের গ্যারেজ ও আসন বাড়ানোর বিষয়ে তাঁদের পাশে থাকা হবে। জনগণের দাবি পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে।
রেলের টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
হাবিবুর রশিদ বলেন, রেলের যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও টিকিটসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ায় টিকিট নিয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
রেলওয়ের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। রেলের উন্নয়ন ও সেবার মান যেন দিন দিন বাড়ে, সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ফেনী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর মামার বাড়ি। প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ফেনীবাসীর উন্নয়নেও সচেষ্ট রয়েছেন।
মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি ও আসন বরাদ্দের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ট্রেনটি চালুর পরিকল্পনার সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু প্রথমেই ফেনীতে যাত্রাবিরতি এবং ফেনীর জন্য সর্বোচ্চ আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সেই দাবি পূরণ করেছেন।
হাবিবুর রশিদ বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, রফিকুল আলম মজনু ফেনীবাসীর সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন বলে তাঁরা মনে করেন। রেলওয়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ফেনীবাসীর দাবিকে সব সময় গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে লোকোমোটিভ ও গ্যারেজের স্বল্পতা ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মিটারগেজ রেলপথ ও লোকোমোটিভের স্বল্পতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। এসব সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার ও মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
এর আগে রাত ১টা ৫৫ মিনিটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে ট্রেন থেকে নামার পর যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এ সময় যাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফেনী স্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসে যাতায়াতের জন্য সর্বমোট ৬২টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার রুটের জন্য ৪৭টি (২টি এসি বার্থ, ১৫টি স্নিগ্ধা ও ৩০টি শোভন চেয়ার) এবং চট্টগ্রাম রুটের জন্য ১৫টি আসন নির্ধারিত রয়েছে। তবে স্থানীয় যাত্রীদের তুলনায় আসন সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।










