
শোরে পাওনা টাকা ফেরত পেতে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেমেছেন সৌদি আরবফেরত আল আমিন (৪৫)। দেনাদারের বাড়ির নিচে বিভিন্ন ফেস্টুন হাতে টুলে বসে গত দুই দিন ধরে প্রতীকী অনশন করছেন তিনি। তার দাবি, পাওনা ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল থেকে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকায় ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের নিচে বসে অনশন শুরু করেন আল আমিন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে তিনি আবারও সেখানে অবস্থান নেন।
আল আমিন শহরের নাজির শঙ্করপুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি জানান, প্রায় চার বছর আগে টাওয়ারটির অন্যতম শরিক মালিক সাদাত শাহরিয়ার পলাশের কাছ থেকে ১৭৭ বর্গফুটের একটি দোকানঘর বায়নামূলে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকায় নেন। তার বিয়াই মিজানুর রহমানের মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়।
আল আমিনের অভিযোগ, টাকা পরিশোধের পর একাধিকবার দোকানটি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অনুরোধ করলেও নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরে দোকান রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিবর্তে টাকা ফেরত চাইলেও তিনি তা পাননি। একপর্যায়ে কোনো উপায় না দেখে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন।
আল আমিন বলেন, চার মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পর পা ও পায়ুপথে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি চরম অর্থসংকটেও রয়েছেন। এ অবস্থায় পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “শরীর অসুস্থ থাকার পরও বাধ্য হয়ে এখানে বসেছি। টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”
আল আমিনের আত্মীয় মিজানুর রহমান জানান, চার বছর আগে ১৭৭ বর্গফুটের দোকানটি ১০ লাখ ২০ হাজার টাকায় নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দোকানটি তালাবদ্ধ রয়েছে এবং তিনি সেটি গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। একাধিকবার রেজিস্ট্রির কথা বলা হলেও তা করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে দোকান রেজিস্ট্রি না হওয়ার বিষয়ে সাদাত শাহরিয়ার পলাশের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, তার মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী আল আমিনকে দোকানটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার পর অন্য শরিক তিন বোন দোকানটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিচ্ছেন না। তার দাবি, বায়নার ১০ লাখ টাকা শরিকরাও নিয়েছেন।
পলাশ আরও বলেন, আল আমিনের সঙ্গে তার দুই দফা কথা হয়েছে। দোকানটি অন্যত্র বিক্রি করে যত দ্রুত সম্ভব আল আমিনের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে আল আমিনের এ অবস্থান কর্মসূচি এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অসুস্থ শরীর নিয়েও টাকা ফেরতের দাবিতে তার এ প্রতীকী অনশন চলমান রয়েছে।








