
দেশে চলতি বছরের জুন মাসে সড়ক, নৌ ও রেলপথে সংঘটিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মোট ৪৬৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।
রোববার (৫ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সারা দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন, যা মোট সড়ক মৃত্যুর ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া পথচারী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৯১ জন এবং চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন।
অন্যদিকে, জুন মাসে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২১টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ জন।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন, থ্রি-হুইলারের যাত্রী ১১২ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন, বাসের যাত্রী ২৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৫ জন এবং রিকশা ও সাইকেলের আরোহী ৮ জন।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি ১৯৪টি বা ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ১৫১টি, গ্রামীণ সড়কে ৬৪টি, শহরের সড়কে ৫৭টি এবং অন্যান্য স্থানে ৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবচেয়ে বেশি ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৫৩টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৭টি অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব দুর্ঘটনায় মোট ৭১৩টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৫৭টি, থ্রি-হুইলার ১৪১টি, বাস ১১৬টি, ট্রাক ১০৭টি, পিকআপ ২৮টি, কাভার্ডভ্যান ২৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৬টি, প্রাইভেটকার ১৩টি, রিকশা ৭টি, বাইসাইকেল ৪টি, অ্যাম্বুলেন্স ৪টি এবং ৩০টি অজ্ঞাত যানবাহন ছিল।
সময়ের হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে। এরপর রাতে ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বিকেলে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ভোরে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ২৪ জন ব্যবসায়ী, ২১ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ১৯ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, ১৭ জন এনজিওকর্মী, ১৩ জন ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৬ জন পোশাকশ্রমিক, ৫ জন নির্মাণশ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক, ৪ জন আইনজীবী, ৪ জন মসজিদের ইমাম বা খাদেম, ৩ জন প্রকৌশলী, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন প্রতিবন্ধী, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন পুলিশ সদস্য এবং ১ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।








