মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬

চান্দিনায় মাদ্রাসা ছাত্র বলাৎকার: গ্রাম্য সালিশ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আটক

ওসমান গনি, চান্দিনা প্রতিনিধি

চান্দিনায় মাদ্রাসা ছাত্র বলাৎকার: গ্রাম্য সালিশ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আটক
চান্দিনায় মাদ্রাসা ছাত্র বলাৎকার: গ্রাম্য সালিশ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আটক/ছবি: প্রতিনিধি

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. মনির হোসেন (৩২) নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনায় আয়োজিত গ্রাম্য সালিশ চলাকালে তাকে আটক করা হয়।

আটক শিক্ষক হাফেজ মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজার এলাকার নবাবপুর মারকাযুন নূর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সোমবার দিবাগত রাতে শিক্ষক মনির হোসেন মাথা ও পা ম্যাসেজ করে দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন।

পরদিন মঙ্গলবার সকালে ওই ছাত্র বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে উত্তমমধ্যম দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে সন্ধ্যায় দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি আপস-মীমাংসার লক্ষ্যে গ্রাম্য সালিশে বসেন।

সেখানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হয়ে খবরটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

গ্রাম্য সালিশের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞা জানান, দুই পক্ষই আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে পরিষদে এসেছিল বলেই তারা সালিশে বসেছিলেন, তবে পরবর্তীতে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন