মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্সে পাওয়া গেল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা, মিলেছে স্বর্ণালংকারও

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

RisingCumilla - Kella Babas majar in Brahmanbaria
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্সে পাওয়া গেল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা, মিলেছে স্বর্ণালংকারও/ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্সে এবার মিলেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে গণনা শেষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।

মাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্স থেকে কোটি টাকার বেশি অর্থ পাওয়া গেল। গণনা শেষে পাওয়া নগদ অর্থ মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা দেওয়া হয়েছে।

মাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাত দিনব্যাপী ওরসকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল ৯টার দিকে চারটি দানবাক্স খোলার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ গণনা শেষে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৪টার দিকে প্রক্রিয়াটি শেষ হয়। এ সময় চারটি দানবাক্স থেকে প্রায় ১২ বস্তা টাকা বের করা হয়।

দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার পুরো প্রক্রিয়া আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়। এতে সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

এর আগে গত ১০ আগস্ট মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় আখেরি মোনাজাত। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান অংশ নেন। ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ওরসের আনুষ্ঠানিকতা চলে।

ওরস উপলক্ষে মাজারে আসা ভক্তরা চারটি দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দান করেন। দানবাক্সের অর্থের সঙ্গে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবও করা হয়েছে। মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও চলছে। এসব সামগ্রী মাজার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম জানান, এর আগে ২০২৩ সালে দানবাক্স থেকে ৮৪ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ৬১ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি অর্থ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো এই মাজারকে ঘিরে প্রতিবছর ওরসের সময় বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ভক্তদের দেওয়া দান থেকেই প্রতিবছর দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়।

আরও পড়ুন