
চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, আগামী বছরের প্রথম দিকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে এসব নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন এই অর্থের আওতায় অনুষ্ঠিত হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আপাতত কোনো ঝুঁকি দেখছেন না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
৬ হাজার ৫৪৪ প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল
ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, এলজিইডি সদর দপ্তর, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টারের মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকেই এসব স্থাপনা থেকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। বাকি ১৫০ মেগাওয়াট নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে সরকারের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এভাবে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে সৌর প্যানেল স্থাপনে ব্যয় করা অর্থ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে।
এ ছাড়া দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভবনবিশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদেও সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাটবাজার উন্নয়নের জন্য উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দ করা অর্থের নির্ধারিত অংশ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট হাটবাজারের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।









